গৃহকর্মীকে তল্লাশি করতে চাওয়াই কাল হয় মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা রাফসান জানি
গৃহকর্মীকে তল্লাশি করতে চাওয়াই কাল হয়
মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা
রাফসান জাবাসায় কাজের ফাঁকে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ সঙ্গে নিয়ে নেয় মাত্র কয়েক দিন আগেই কাজে যোগ দেওয়া গৃহকর্মী আয়েশা আক্তার। কাজ শেষে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সন্দেহ হয় গৃহকর্ত্রী লায়লা আফরোজের। আয়েশার গতিরোধ করে তল্লাশি করতে চান। আর তা কাল হয় লায়লা ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজের। প্রথমে লায়লার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় আয়েশার। একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে লায়লাকে আঘাত করে আয়েশা। চিৎকার শুনে এগিয়ে আসে নাফিসা, তখন তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে আয়েশা। ছুরির একের পর এক আঘাতে মা ও মেয়ের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়, সেখানেই প্রাণ হারান তারা।
এরপর ওই বাসাতেই পরনের রক্তমাখা বোরকা পরিবর্তন করে নিহত নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে নেয় আয়শা। তারপর কাঁধে ঝোলানো একটি ব্যাগে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ চুরি করা অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় আয়েশা। গতকাল বুধবার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি দল ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। আয়েশাকে গ্রেপ্তারের সময় তার বাম হাতে ব্যান্ডেজ দেখা যায়। পুলিশকে আয়েশা জানিয়েছে, মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাত করার সময় তিনি হাতে আঘাত পান।
মা-মেয়েকে হত্যার কারণ জানিয়ে আয়েশাকে গ্রেপ্তারের পর তার স্বামী রাব্বি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বলেন, ‘মোবাইল, ল্যাপটপ এগুলা নিয়ে বাইর হইতে গেছে। আর এই সময় ম্যাডাম (গৃহকর্মী) পেছন থেকে আটকাইছে। চিন্তা করছে, আটকাইছে, বাঁচন লাগব। বাঁইচা আসার চিন্তায় ধস্তাধস্তি হইছে।’
গ্রেপ্তার আয়েশা নরসিংদী সদর থানার সলিমগঞ্জের রবিউল ইসলামের মেয়ে। ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর পূর্বহাটি এলাকায় স্বামী রাব্বী সিকদারকে নিয়ে ভাড়া বাতাকে গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সহিদুল ওসমান মাসুম বলেন, আয়েশাকে স্বামীর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন কালবেলাকে বলেন, ‘মা-মেয়েকে হত্যার পর থেকে একাধিক টিম নিয়ে সিসি ফুটেজ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের জন্য কাজ করছিলাম। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা প্রথমে তার বর্তমান বাসা খুঁজে বের করি। পরে আমরা তার মায়ের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে নিশ্চিত হতে পারি যে, সে ঝালকাঠির নলছিটি এলাকায় অবস্থান করছে। পরে আমরা সেখানে গিয়ে আয়েশাকে গ্রেপ্তার করি। সেখানে তার স্বামী রাব্বীকেও পাওয়া যায়, তাকেও আমরা হেফাজতে নিই।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর আয়েশা বিষয়টি তার স্বামীকে জানায়। ঘটনাটি নিয়ে যখন গণমাধ্যমে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ হতে থাকে, তখন রাব্বি তার স্ত্রীকে নিয়ে ঝালকাঠি পালিয়ে যায়।
বাসাটি থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে এসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বাসা থেকে নেওয়া দুটি ল্যাপটপের মধ্যে একটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে এবং একটি আমরা উদ্ধার করতে পেরেছি। বিক্রি করে দেওয়া ল্যাপটপটিও উদ্ধার করা হবে এবং মোবাইল ফোনটি পানিতে ফেলে দিয়েছে। তবে তাদের সব তথ্য এখনই বিশ্বাস করতে চাচ্ছি না। আমরা তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলতে পারব।’
গত সোমবার সকালে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের ১৪ তলা আবাসিক ভবনের সপ্তম তলায় লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নাফিসা মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মী আয়েশাকে আসামি করে সোমবার রাতেই মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন আ জ ম আজিজুল ইসলাম। মামলায় তিনি বাসার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের একটি বর্ণনা দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, আসামি সকাল ৭টা ৫১ মিনিটের সময় কাজ করার জন্য বাসায় আসে। সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটের সময় আসামি তার (বাদী) মেয়ের স্কুল ড্রেস পরে বাসা থেকে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় একটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ অন্যান্য মূলবান সামগ্রী নিয়ে যায়।
মামলার বাদী আজিজুল পেশায় স্কুল শিক্ষক। মোহাম্মদপুরে পরিবার নিয়ে থাকেন। ঘটনার চার দিন আগে আয়েশাকে তার বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে রাখেন। সোমবার সকাল ৭টার দিকে তিনি (আজিজুল) কর্মস্থল উত্তরায় চলে যান। কর্মস্থলে থাকাকালে স্ত্রীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন। পরে বেলা ১১টার দিকে বাসায় আসেন। এসে দেখতে পান, মেয়ের গলার নিচে ডান পাশ কাটা। মেয়ে গুরুতর অবস্থায় বাসার প্রধান ফটকে পড়ে আছে। মেয়ের এ অবস্থা দেখে তিনি দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন। পরিচ্ছন্নতা কর্মী আশিকের মাধ্যমে মেয়েকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আর স্ত্রীর গলাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছিল কাটা। স্ত্রী রক্তাক্ত-জখম হয়ে মৃত অবস্থায় পড়ে ছিলেন রান্নাঘর লাগোয়া করিডোরে।সায় থাকতেন।নি

Comments
Post a Comment