আমি চলে গেলে আমার সন্তান লড়বে, বলেছিলেন হাদি

 আমি চলে গেলে আমার সন্তান লড়বে, বলেছিলেন হাদি




আমি চলে গেলে আমার সন্তান লড়বে, তার সন্তান লড়বে। যুগ হতে যুগান্তরে আজাদির সন্তানেরা স্বাধীনতার পতাকা সমুন্নত রাখবেই’- কথাগুলো শরিফ ওসমান হাদি বলেছিলেন গত ৪ সেপ্টেম্বর।


সাধাসিধে চেহারার মায়াভরা তরুণের কী বলিষ্ঠ উচ্চারণ। মেরুদণ্ড সোজা; যা বিশ্বাস করেছেন, তা সরাসরি বলেছেন। জুলুমের সঙ্গে আপসহীন এক তারুণ্য। শাসকের নিপীড়ন, অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ওসমান হাদি দাঁড়িয়ে যেতেন পাহাড়ের মতো।


সহযোদ্ধারা বলেছেন, ওসমান হাদি ভালো খাবারটি সহকর্মীদের ভাগ করে দিতেন। মাথার নিচের বালিশটি তাঁর সহযোদ্ধাদের নিচে দিতেন, যেন তাঁর সহযোদ্ধার রাতটি আরামের ঘুমের হয়। তবে কোমল হৃদয়ের মানুষটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন ইস্পাত কঠিন দৃঢ়

সর্বশেষ

জাতীয়

রাজনীতি

সারাদেশ

আন্তর্জাতিক

খেলাধুলা

আইন-আদালত

বিনোদন

ই-পেপার

শিক্ষা

লাইফস্টাইল

মতামত

অর্থনীতি

ধর্ম

চাকরি

প্রবাস

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

সম্পাদকীয়

কর্পোরেট

সাহিত্য ও সংস্কৃতি

ফিচার

গণমাধ্যম

স্যোশাল মিডিয়া

স্বাস্থ্য

 শিরোনাম

এবার ইউজিসির নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

সরকারকে এই ঘটনার দায় নিতে হবে: মির্জা ফখরুল

শাহবাগে বাড়ছে ছাত্র-জনতার উপস্থিতি

বাংলাদেশ ব্যাংকের শুক্রবারের লিখিত পরীক্ষা স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৭

এবার ইউজিসির নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

সরকারকে এই ঘটনার দায় নিতে হবে: মির্জা ফখরুল

শাহবাগে বাড়ছে ছাত্র-জনতার উপস্থিতি

বাংলাদেশ ব্যাংকের শুক্রবারের লিখিত পরীক্ষা স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৭

এবার ইউজিসির নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

সরকারকে এই ঘটনার দায় নিতে হবে: মির্জা ফখরুল

শাহবাগে বাড়ছে ছাত্র-জনতার উপস্থিতি

বাংলাদেশ ব্যাংকের শুক্রবারের লিখিত পরীক্ষা স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৭

Item 1 of 5

জাতীয় 

আমি চলে গেলে আমার সন্তান লড়বে...

সাজ্জাদ মাহমুদ খান

১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম


Image not found



‘আমি চলে গেলে আমার সন্তান লড়বে, তার সন্তান লড়বে। যুগ হতে যুগান্তরে আজাদির সন্তানেরা স্বাধীনতার পতাকা সমুন্নত রাখবেই’- কথাগুলো শরিফ ওসমান হাদি বলেছিলেন গত ৪ সেপ্টেম্বর।


সাধাসিধে চেহারার মায়াভরা তরুণের কী বলিষ্ঠ উচ্চারণ। মেরুদণ্ড সোজা; যা বিশ্বাস করেছেন, তা সরাসরি বলেছেন। জুলুমের সঙ্গে আপসহীন এক তারুণ্য। শাসকের নিপীড়ন, অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ওসমান হাদি দাঁড়িয়ে যেতেন পাহাড়ের মতো।


সহযোদ্ধারা বলেছেন, ওসমান হাদি ভালো খাবারটি সহকর্মীদের ভাগ করে দিতেন। মাথার নিচের বালিশটি তাঁর সহযোদ্ধাদের নিচে দিতেন, যেন তাঁর সহযোদ্ধার রাতটি আরামের ঘুমের হয়। তবে কোমল হৃদয়ের মানুষটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন ইস্পাত কঠিন দৃঢ়।



ওসমান হাদি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমার মা কান্নাকাটি করেন, পরিবার উদ্বিগ্ন। কিন্তু আমি মাকে বলেছি, আমরা একটা লড়াইয়ে নেমেছি। কোনো রাজনীতিবিদের মৃত্যু তাঁর ঘরে হতে পারে না। ওসমান হাদি যেন নিজের ভাগ্য আগেই বলে গিয়েছিলেন। রাজপথের সংগ্রামকেই যিনি জীবন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন, তার পরিণতিও এড়াতে পারেনি সেই পথের নির্মমতা। লড়াই করতে করতেই, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে, ঘাতকের বুলেটে থেমে গেল ওসমান হাদির জীবন। রাজপথেই হলো তাঁর শেষ ঠিকানা, যেখানে একজন সংগ্রামীর মৃত্যু কেবল একটি প্রাণহানি নয়, বরং সময়ের বুকে খোদাই হয়ে থাকা এক নির্মম সত্য।


ঝালকাঠির নলছিটির এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান তাঁর জীবনকে আমূল বদলে দেয়। রাজপথের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং তেজস্বী বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দ্রুত জুলাই বিপ্লবের অগ্রভাগে চলে আসেন। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তিনি ক্ষমতায় ভাগ বসাননি। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির জন্য গড়ে তোলেন ইনকিলাব মঞ্চ। অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে হয়ে উঠেন বিপ্লবের প্রতীক।


প্রলোভন, মৃত্যু ঝুঁকি, গ্রেপ্তার আতঙ্ক কিংবা রাজনৈতিক চাপ কোনো কিছুই তাঁকে সত্য বলা থেকে থামাতে পারেনি। প্রতিকণ্ঠের ওসমান হাদি ধীরে ধীরে বিপ্লবের প্রতীকে রূপ নিয়েছেন। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধিপত্যবাদবিরোধী দেশপ্রেমিক তরুণ-কিশোররা।


সহযোদ্ধারা বলছেন, ওসমান হাদির নেতৃত্বে আন্দোলন শুধু প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা হয়ে উঠেছিল একটি আদর্শিক সংগ্রাম। সাধারণ মানুষের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ন্যায়ের পক্ষে তাঁর অবস্থান তরুণদের মধ্যে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে, জুগিয়েছে প্রেরণা। তিনি হয়ে উঠেছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসী মুখ।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর তাঁর হাত ধরেই গড়ে ওঠে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। এই সংগঠনের ঘোষিত লক্ষ্য হলোÑ সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ। আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হয়ে তিনি বাংলাদেশপন্থি তরুণদের নেতা হয়ে উঠেন।


নির্বাচনী প্রচারে মুড়ি-বাতাসা বিতরণ, মসজিদের সামনে ভোররাতে লিফলেট বিলি কিংবা অনুদান সংগ্রহের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে নিয়মিত আলোচনার কেন্দ্রে রাখত।


সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি ফোন নম্বর থেকে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাঁর বাড়িতে আগুন দেওয়াসহ মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।


বারবার প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার কথা জানালেও দমে যাননি এ বিপ্লবী। বরং বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুলেছেন ‘আগামী ৫০ বছর বাঁচলাম, কোনো ইমপ্যাক্ট তৈরি হইলো না আমারে দিয়ে। কিন্তু আমি ধরেন ৫ বছর বাঁচলাম, সেটার মধ্য দিয়ে যদি আগামী ৫০ বছরের ইমপ্যাক্ট তৈরি হয়, তাহলে অনেকদিন বেঁচে থাকাই কি সাফল্যের বলেন?


সহযোদ্ধারা বলছেন, ওসমান হাদির হৃদয়জুড়ে ছিল বাংলাদেশ। তিনি সব সময় বাংলাদেশকে দেখতে চেয়েছিলেন বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো এক রাষ্ট্র হিসেবে। তাই তিনি বলতেন, ‘বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতিটি ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে আমরা পায়ে হেঁটে নতুন আজাদি নয়া বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য ইনশা আল্লাহ পদযাত্রা শুরু করব।’


কোমল হৃদয়ের ওসমান হাদির পরিচয় ছিল এক নির্ভীক, মানবিক ও প্রতিবাদী কবি হিসেবেÑ যিনি কলমকে বেছে নিয়েছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র বানাতে। সাহিত্যের জগতে তিনি ‘সীমান্ত শরীফ’ ছদ্মনামে লিখেছেন একের পর এক তীক্ষè, দ্রোহী কবিতা; যেখানে শোষণ, বৈষম্য আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে উচ্চারিত হয়েছে নিঃশর্ত প্রতিবাদ। তার কবিতায় ছিল মানুষের আর্তি, মাটির গন্ধ, স্বপ্নভাঙা বাস্তবতা আর অদম্য আশার দীপ্তি। শব্দে শব্দে তিনি তুলে ধরেছেন সময়ের ক্ষত, আবার সেই ক্ষত সারানোর আকুল আকাক্সক্ষাÑ যে কারণে ওসমান হাদি কেবল কবি নন, ছিলেন সময়ের এক বিবেক।


কবিতায় তাঁর উচ্চারণ,


‘আমায় ইচ্ছেমতো ছিঁড়ে খাও তোমরা!


দোহাই, শুধু মস্তিষ্কটা খেয়ো না আমার।’


শকুনেরা ওসমান হাদির মাথা বরাবর গুলি চালিয়ে মস্তিষ্ক ছিন্নভিন্ন করল, তবু তাঁর সত্তা, তাঁর শব্দ, তাঁর প্রতিবাদ, তাঁর যন্ত্রণাÑ সবই অমর হয়ে রইল। ওসমান হাদি কেবল একজন মানুষ ছিলেন না; তিনি হয়ে উঠেছিলেন প্রতিটি আপসহীন বিপ্লবীর হৃদয়ে এক অম্লান শিখা। যুগের পর যুগ, তাদের রক্তঝরা স্বপ্নের মাঝে তিনি বেঁচে থাকবেনÑ প্রতিবাদের কণ্ঠ হয়ে, অদম্য সাহস হয়ে, প্রতিটি সংগ্রামী হৃদয়ে চিরকাল ধরে।

Countdown Timer

Comments

Popular posts from this blog

যে গো’পন বিষয়গুলি মেয়েরা কখনোই ছেলেদের কাছে বলে না, ৪ নাম্বারটা জা’নলে অ’বাক হবেন!

প্রতি টা মেয়ের লেখা টা পড়া উচিতসঠিক চিকিৎসা

কন"ডম তৈরি, হয় কোন প্রাণী অ,ঙ্গ দিয়ে জানলে অবাগ হবেন?