নবীজি (সা.) যে ইস্তেগফারটি বেশি পড়তেন
নবীজি (সা.) যে ইস্তেগফারটি বেশি পড়তেন
নবীজি (সা.) বেশি যে ইস্তেগফারগুলো পড়তেন তার মধ্যে অন্যতম হলো সায়্যিদুল ইস্তেগফার (শ্রেষ্ঠ ইস্তেগফার) এবং শেষের দিকে "সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া अतুবু ইলাইহি"। তিনি দিনে ৭০ থেকে ১০০ বার ইস্তেগফার করতেন, কারণ নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও বান্দার অপূর্ণতা পূরণের জন্য ক্ষমা চাওয়া প্রয়োজন, যা বরকত ও রিজিক বৃদ্ধি করে।
নবীজি (সা.)-এর পড়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্তেগফার:
সায়্যিদুল ইস্তেগফার (শ্রেষ্ঠ ইস্তেগফার):
উচ্চারণ: "আল্লা-হুম্মা আন্তা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু। আউজুবিকা মিন শাররি মা সনা’তু, আবুউ লাকা বি-নি‘মাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবুউ বি-যামবি, ফাগফিরলি, ফাইনাল্লাহা লা ইয়াগফিরুজ-যুনুবা ইল্লা আন্তা।"
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমার রব। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আমি আপনার সাথে করা ওয়াদা ও অঙ্গীকারের উপর আমার সাধ্যমত স্থির আছি। আমার কৃতকর্মের মন্দ থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আপনার দেওয়া নিয়ামতের জন্য আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই এবং আমার গুনাহর জন্য আপনার কাছে ক্ষমা চাই। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন, কারণ আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।
শেষ জীবনের ইস্তেগফার:
উচ্চারণ: "সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া अतুবু ইলাইহি"
অর্থ: আল্লাহ পবিত্র এবং আমি তাঁর প্রশংসার সাথে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাই।
অন্যান্য:
"রাব্বিগফিরলি, ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আনতা আত্তাওয়াবুর রাহিম" (হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন, নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু)।
কেন বেশি ইস্তেগফার পড়তেন?
গুনাহ মাফ: এটি গুনাহ মাফ করে এবং গুনাহর বোঝা হালকা করে।
রিজিক বৃদ্ধি: আল্লাহ এমন উৎস থেকে রিজিক দেন যা মানুষ কল্পনাও করতে পারে না।
বিপদ থেকে মুক্তি: প্রত্যেক বিপদ থেকে মুক্তির পথ করে দেয় এবং দুশ্চিন্তা দূর করে।
আল্লাহর সন্তুষ্টি: এটি আল্লাহকে খুশি করে এবং তাঁর রহমত আকর্ষণ করে।
নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও নবীজি (সা.) প্রতিদিন ৭০-১০০ বার ইস্তেগফার করতেন, যা উম্মতের জন্য একটি বড় শিক্ষা যে সবসময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও ফিরে আসার আকুতি থাকা উচিত।

Comments
Post a Comment